calendar_today বুধবার, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ • ৪ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ ◆ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা নামল ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্টের ◆ ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা ◆ রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত, আহত ২ ◆ সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী ◆ টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন
home হোম / সারা বাংলা / প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক ফরিদপুরে ৫১৫ টি , ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
সারা বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক ফরিদপুরে ৫১৫ টি , ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

ফরিদপুরে ৫১৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক চলছে ভারপ্রাপ্তের আন্ডারে। এতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষারমান চলে আসছে তলানিতে। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে করে ফরিদপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ • বিকাল ০৩:৪৭
history আপডেট: ২ মাস আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১১৬ বার পঠিত

ফরিদপুর ৯ টি উপজেলায় মোট ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রয়েছে। এর মধ্যে ৫১৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অনেকাংশেই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মনর্জির উপর।

 

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একদিকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে। এ কারন তুলে ধরছেন মুন্সিবাজার এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর মা মোমেনা বেগম। তিনি বলছেন আগে আওয়ামী পন্থী শিক্ষক শিক্ষিকাদের দাপটে কিছু বলা যেতো না খেয়াল খুশী মত স্কুল আসতেন, আবার কেউ আসতেনই না। সেই লেকগুলোই এখন আছেন। তাদের পুরাতন অব্যাশ পাল্টাতে পারেননি। তার মধ্যে নেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

 

এতে বিদ্যমান শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগষ্ট) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ খবর নিলে এমন তথ্য উঠে আসে। তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৭৩ জন। অর্থাৎ শূন্য পদ রয়েছে ৫১৫টি।

 

উপজেলাভিত্তিক হিসাবেও প্রধান শিক্ষকসংকটের চিত্র দৃশ্যমান । ফরিদপুর জেলা সদরে ১৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮০ জন। শূন্য ৭৩টি পদ। মধুখালীতে ৯৬টি পদে কর্মরত আছেন ৪৫ জন, শূন্য ৫১টি। সদরপুরে ১৩০টি পদের মধ্যে আছেন মাত্র ৪৩ জন; শূন্য ৮৭টি।

 

নগরকান্দায় ৮৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩০ জন; শূন্য ৫৪টি। আলফাডাঙ্গায় ৭৩টি পদে কর্মরত মাত্র ১৯ জন; শূন্য ৫৪টি। আর বোয়ালমারীতে ১০২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৬ জন এবং শূন্য আছে ৫৬টি পদ।

 

ভাঙ্গায় ১২০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪৯ জন শূন্য রয়েছে ৭১টি পদ। চরভদ্রাসনে ৫৪টি পদে কর্মরত ৩৭ জন, শূন্য ১৭টি। সালথায় ৭৬টি পদে আছেন ২৪ জন এবং শূন্য ৫২টি পদ আছে।

 

জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। কোথাও কোথাও বছরের পর বছর স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নির্ভর করছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের ওপর।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিসহ নানা দায়িত্ব।

 

ফলে একজন শিক্ষক যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন তার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দায়িত্ব অন্য শিক্ষকের ওপর পড়ে। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

 

শিক্ষাবিদদের ও অভিভাবকদের ভাষ্য মতে, একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এবং মান নিয়ে ও কথা উঠে।

 

সংশ্লিষ্ট সকলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি যেমন ফিরবে তেমনি অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপও কমবে।

 

এই বিষয়ে, ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম তৌফিকুর রহমান বলেন, ফরিদপুর জেলার ৫১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা যতোটুকু জানি দ্রুতই সরকার ও এই বিষয়ে আন্তরিক হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এই সরকার শিক্ষাবান্ধ সরকার এতে কোন সন্দেহ নেই।